ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে বুধবার থেকে শুরু হল ঐতিহাসিক রামকেলি মেলা।
মালদা, ১৫ জুন: ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে বুধবার থেকে শুরু হল ঐতিহাসিক রামকেলি মেলা। মেলার প্রথম দিনই পশ্চিমবঙ্গ সহ ভিন রাজ্য থেকে সাধুসন্ন্যাসীদের ভীড় উপচে পড়েছে। সেজে উঠেছে গোটা রামকেলি ধাম। উল্লেখ্য
মালদা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যর মূর্তিতে মাল্যদান করে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে ৫০৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহি রামকেলি মেলার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক নিতিন সিংঘানিয়া, পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব, জেলা পরিষদের সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, পুরাতন মালদার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ, মালদা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ স্বপন মিশ্র,প্রতিভা সিং, তৃণমূল নেতা চন্দন ঘোষ সহ অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
৫০৮ বছরের পুরনো মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের আগমনের স্মরণে মালদার গৌড়ের রামকেলি মেলা।এই মেলায় শুধু জেলার নয় দেশ বিদেশ থেকেও বহু মানুষ এই মেলায় আসেন।
জানা গিয়েছে প্রায় ৫০৮ বছর আগে বৃন্দাবন যাওয়ার পথে মালদা জেলায় আসেন মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেব। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে নিয়ে তার বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করতে থাকেন। ঠিক সেই সময় সুলতান হুসেন শাহের মন্ত্রী সভার দুই জন শ্রীচৈতন্যদেবের শিষ্যত্ব গ্রহন করেন। পরবর্তী সময়ে তারা রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী নামে পরিচিত হন। তারা বৈষ্ণব ধর্মের প্রচার শুরু করেন। মহাপ্রভুর স্মৃতিতে মালদার গৌড়ে রামকেলিতে প্রতি বছর জ্যোষ্ঠ সংক্রান্তিতে মেলা শুরু হয়। যেখানে দেশ বিদেশ থেকে বহু মানুষ এই মেলায় ছুটে আসেন।
সরকারিভাবে তিনদিনের মেলার অনুমতি থাকলেও মেলা চলে প্রায় সাত দিন ধরে।
দূরদূরান্ত থেকে মেলায় ছুটে আসেন ভক্তরা। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। মেলায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে মৃদঙ্গের দোকান। এর পাশাপাশি তীব্র গরমে ভেড়ার লোমের তৈরি কম্বল কিনতেও দেখা যায় দর্শনার্থীদের। হাজার হাজার বছরের স্মৃতিসৌধ ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে গৌড়ের রামকেলি এলাকায় বহু নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মেলার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা সেই ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতেও ভিড় জমান।
Comments
Post a Comment