গৃহ-পালিত পশুদের চিকিৎসা করাতে এসে জুটেছে অবহেলা! প্রাণী সম্পদ আধিকারিক কে ঘিরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের, শুরু রাজনৈতিক তরজা
মালদা, ১২ এপ্রিল: ঝাঁ চকচকে হাসপাতাল থাকলেও নেই চিকিৎসক, বেহাল অবস্থা মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের পশু হাসপাতালের। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই হাসপাতালের চিকিৎসক নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। মিলছে না পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ওষুধ। গৃহ-পালিত পশুদের চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসে জুটেছে অবহেলা। অসুস্থ পশুদের নিয়ে চরম সংকটে এলাকার বাসিন্দারা। তাই বাধ্য হয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক প্রাণি-সম্পদ আধিকারিক কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকা-জুড়ে।
প্রসঙ্গত, জেলায় চারটি স্টেট অ্যানিমেল হেলথ সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে মালদা, গাজোল, চাঁচল এবং হরিশ্চন্দ্রপুরে এই হেলথ সেন্টার গুলি আছে। তার মধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুরের এই স্টেট অ্যানিমেল হেলথ সেন্টারের অধীনে চারখানা সাব সেন্টার রয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অধীনে কুশিদা এবং তুলসিহাটা সাব সেন্টার। অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের অধীনে ভালুকা ও খিদিরপুরে সাব সেন্টার রয়েছে।তবে চিকিৎসকের অভাবে থমকে রয়েছে ভালুকা কেন্দ্রেরও চিকিৎসা ব্যবস্থা।
যদিও প্রাণি-সম্পদ আধিকারিক সাফাই দিয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ রয়েছে কিন্তু চিকিৎসকের অভাব আছে ঠিকই তবুও চিকিৎসা ব্যবস্থা থেমে নেই। পাশাপাশি এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। লক্ষী ভান্ডার দিতে দিতে শেষ-মেষ শ্রীলংকার মত অবস্থা তৈরি করে দিবে এই রাজ্য-সরকার খোঁচা জেলা বিজেপি নেতৃত্বের,
অন্যদিকে রাজ্যের শ্রীলংকার মত অবস্থা হবে না, তবে যে দিন দিন বিজেপি সরকার জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে গোটা ভারত শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থায় পরিণত হয়ে যাবে সাফাই জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। শুরু তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিশ্চন্দ্রপুর পশু চিকিৎসালয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে চিকিৎসক নেই। হরিশ্চন্দ্রপুর দু'নম্বর ব্লকের প্রাণি-সম্পদ আধিকারিক এই কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন। যেখানে এই পশু হাসপাতালে এক জন চিকিৎসক, এক জন ফার্মাসিস্ট, এক জন করণিক এবং এক জন গ্রুপ ডি থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে পশু হাসপাতালের চিকিৎসক নেই। স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রাণি-সম্পদ কর্মীকে দিয়ে কোন রকমে পশুদের চিকিৎসার কাজ করানো হচ্ছিল কিন্তু এক বছর আগে সেই কর্মীও পদোন্নতি পেয়ে অন্য জায়গায় বদলি হয়ে গিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে থমকে গিয়েছে চিকিৎসা পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পশুদের নিত্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে আসছেন এলাকার বাসিন্দারা তাদেরকেও খালি হাতে ফেরত যেতে হচ্ছে। চিকিৎসার নামে জুটছে অবহেলা। চিকিৎসার অভাবে প্রচুর গৃহ-পালিত প্রাণীর এবছর অকালে মৃত্যু হয়েছে। এই পশু হাসপাতালে স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় পার্শ্ববর্তী ব্লকের প্রাণি-সম্পদ আধিকারিক এই দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
Comments
Post a Comment